বইপত্র

সাদাত হোসাইনের চার রংয়ের প্রচ্ছদ বিতর্ক: দোষ কার?

কোনো ঘটনায় অধিকাংশ মানুষই কাকে দায়ী করতে হবে, সেটা জানে না। যে ফেমাস, বা যে সফল, তার প্রতি সম্ভবত মানুষের ঈর্ষা একটু বেশি থাকে। ফলে তাকেই দায়ী করে। অনেক সময়ই অন্যায়ভাবে।

সাদাত হোসাইনের কথাই ধরেন। তার উপন্যাস আপনার কাছে ভালো নাই লাগতে পারে এবং সেজন্য তার উপন্যাসের সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার আপনার আছে। একইসাথে চার রংয়ের বই বিক্রি করার আইডিয়াটাও আপনার কাছে হাস্যকর মনে হতে পারে এবং সেটা নিয়ে সমালোচনা করার অধিকারও আপনার আছে।

কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে চার রংয়ের বই বিক্রির ব্যাপারটাতে মূল সমালোচনাটা হওয়া উচিত প্রকাশকের। এই যে ফেসবুকে চার রংয়ের প্রচ্ছদ নিয়ে যত ট্রোল হচ্ছে, সেখানে সবাই সাদাত হোসাইনকেই পচাচ্ছে, প্রকাশকের নামও নিচ্ছে না, দিস ইজ নট ফেয়ার।

অথবা রকমারির কথা ধরেন। রকমারির বিজনেস মনোপলি নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। আমি যেহেতু বিদেশে থাকি, এটা ফেস করিনি, তাই হয়তো জানি না, বাট ধরে নিলাম সেগুলো লেজিট সমালোচনাই। কিন্তু রকমারির সমালোচনা করার সময়ও মাথায় থাকা উচিত রকমারির মূল দায়িত্ব কী।

গতকাল স্টোরিতে একটা ছবি দিলাম। রকমারির একটা বইয়ের বিজ্ঞাপনের স্ক্রিনশট। একজনে ইলন মাস্কের উপর একটা বই অনুবাদ করেছে, সেখানে প্রচ্ছদেই নাম লিখেছে “এলেন” মাস্ক। বইয়ের লেখকের নাম জর্জ ইলিয়ানকে লিখেছে জর্জ “এলিয়েন”।

স্বাভাবিকভাবেই এটা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে ম্যাক্সিমাম সমালোচনা হচ্ছে রকমারিকে নিয়ে। বইয়ের অনুবাদককে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে রকমারির চেয়েও কম। আর প্রকাশকের সমালোচনা তো পুরাই অনুপস্থিত। ম্যাক্সিমাম কমেন্ট হচ্ছে – রকমারি আলতু ফালতু দিয়ে ভরিয়ে ফেলছে।

অথচ রকমারির কাজ কী? তাদের কাজ একটা বইয়ের দোকানের কাজের মতো। আপনি যদি পুরা সাদা পাতার একটা বই লিখে প্রকাশ করেন, রকমারির সেটাও বিক্রি করা উচিত। এবং বইটা যেন পাঠকের কাছে পৌঁছে, সেজন্য স্পন্সর করা উচিত।

বিশেষ করে লেখক/প্রকাশক হিসেবে আপনি যদি রকমারিকে স্পন্সর করার জন্য বাড়তি টাকা পে করেন, তাহলে তারা সেটা স্পন্সর করবে না কেন? তারা তো বই বিক্রি করতেই ব্যবসায় নেমেছে। বইয়ের গুণগত মানের কথা যদি তোলেন, তাহলে এক্ষেত্রে মূল দায় লেখকের এবং প্রকাশকের। বই বিক্রেতার না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.