ইসলামিক

মা হাওয়া কবরস্থান: যার নামানুসারে জেদ্দা শহরের নামকরণ

সৌদি আরবের জেদ্দা শহরের নামটি এসেছে জিদ্দাহ শব্দটি থেকে। আরবি জিদ্দাহ শব্দটির অর্থ দাদী। ধারণা করা হয়, মানবজাতির আদি মাতা (অথবা মানবজাতির দাদী) হযরত হাওয়া (আ)-এর আবাসভূমি ছিল এই জেদ্দা নগরী। অনেকের ধারণা, সেখান থেকেই শহরটির এই নামটি এসেছে।

যদিও কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই, কিন্তু স্থানীয় প্রাচীন লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, জেদ্দার বর্তমান আল-বালাদ এলাকার “মাক্ববারাত উম্মুনা হাওয়া” তথা “আমাদের মা হাওয়া” নামক কবরস্থানেই শায়িত আছেন হযরত হাওয়া। ইবনে বতুতাসহ বহু পর্যটক এবং ইতিহাসবিদের বর্ণনায় জেদ্দায় হযরত হাওয়ার কবরের উপস্থিতি এবং সেটা নিয়ে মানুষের আগ্রহের কথা জানা যায়।

সে সময় অবশ্য সেখানে কোনো কবরস্থান ছিল না। শুধু পাথরের গায়ে কবরের মতো দেখতে একটা বিশাল স্থাপনা ছিল। সেই কবরের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১২০ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৩ মিটার। স্থানীয়রা সেটাকেই হযরত হাওয়ার কবর বলে বিশ্বাস করত। এবং হজ্বের পর অনেকেই সেই কবর দেখতে বা জিয়ারত করতে যেত।

শতশত বছর ধরে এই ঐতিহ্য চালু থাকে। অনেক ইতিহাসবিদ এবং পর্যটক অবশ্য হযরত হাওয়ার এরকম শারীরিক আকৃতি, এবং সেই সূত্র কবরটি আসলেই হযরত হাওয়ার কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন। কিন্তু তাদের মতামত জনগণের বিশ্বাসকে টলাতে পারেনি।

উনবিংশ শতকে অটোমান খলিফা কর্তৃক নিযুক্ত হিজাজের আমির, শরিফ আউন আর-রফিক কবরটি ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তীব্র জনরোষের ভয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি পিছু হটেন।

পরবর্তীতে বাদশাহ আব্দুল আজিজ আল-সৌদ যখন হিজাজ জয় করেন, তখন ১৯২৮ সালে ওয়াহাবিরা কথিত কবরটি ধ্বংস করে স্থানটিকে সাধারণ একটি কবরস্থানে রূপান্তরিত করে। আরও পরে ১৯৭৫ সালে কবরটিকে কনক্রিটের সীলগালা করে দেওয়া হয়।

যে পাথরের আকৃতিটিকে হাজার বছর ধরে মানুষ হযরত হাওয়ার কবর বলে বিশ্বাস করে এসেছে, বর্তমানে সেটির আর কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় না। তবে জেদ্দাহ শহরটি এবং উম্মুনা হাওয়া কবরস্থানটি ঠিকই আজও তার নাম বহন করছে।

প্রথম লেখা হয়েছিল ফেসবুকে। ৫ মে, ২০২১ তারিখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.