Views: 31
একটা খুবই সিম্পল কমনসেন্সের কথা বলি। টপিক: স্লিপার এজেন্ট অথবা ডীপ আন্ডারকভার ডাবল এজেন্ট।
ব্লগে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা দীর্ঘদিন কাটিয়েছেন, তারা লক্ষ্য করে থাকবেন, এমন কিছু আইডি বা পেজ থাকে, যারা কোনো একটা দলের লোক সেজে সেই দলের জন্য ড্যামেজিং কথাবার্তা প্রচার করে।
ফেসবুকে অবশ্য এখন স্যাটায়ারিক্যাল পেজের সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়ায় ব্যাপারটা খেলো হয়ে গেছে। কিন্তু পাঁচ-সাত বছর আগেও এমন অনেক পেজ ছিল, যেগুলো মূলত বিএনপির নামে আওয়ামী লীগ দ্বারা, বা আওয়ামী লীগের নামে বিএনপি দ্বারা পরিচালিত।
সারা বছর তারা পেজটা যে দলের নামে, সেই দলের পক্ষেই লেখালেখি করত। কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ বিশেষ বিশেষ উপলক্ষে খেলে দিতো। তখন সেগুলো মানুষ গণহারে শেয়ার করত। সেগুলো যে ফেক পেজ, সেটা না বুঝে সিরিয়াস মনে করেই।
বেশি দূর যাওয়া লাগবে না। নায়ক কাজি মারুফের যে বিখ্যাত একটা পেজ ছিল, যেখান থেকে তার আবভু আর কালো বন্দুক সংক্রান্ত ডায়লোগটা ভাইরাল হয়েছিল, সেটাও ছিল ফেক অ্যাকাউন্ট।
এখন আমাদের কাছে ব্যাপারটা পরিষ্কার। কিন্তু সে সময় আমার লিস্টের অনেক সেলিব্রেটি ফেসবুকারও সেটাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল এবং একজন নায়ক কীভাবে এত বলদ হয়, সেটা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে সেই স্ট্যাটাস শেয়ার দিয়েছিল। ফেসবুকে ফেক আইডি দিয়ে মানুষকে বলদ বানানো এতই সহজ!
এখন পর্যন্ত যে কয়টার কথা বললাম, সবগুলোই অ্যামেচারদের কাজ। কিন্তু যেই দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ সারাদিন ফেসবুকে পড়ে থাকে, যেই দেশে মানুষ ফেসবুকেই রাজনীতির আলাপ করে, যেই দেশে মানুষ গণমাধ্যমের উপর আস্থা হারিয়ে ফেসবুককেই নিউজ অ্যান্ড ভিউজের একমাত্র সোর্স হিসেবে গ্রহণ করে, এবং যেই দেশে ফেসবুক সেলিব্রেটি এবং মোটিভেশনাল স্পিকারদের লাখ লাখ ফলোয়ার, আপনার কি ধারণা সেই দেশে এমন একজন সুপার সেলিব্রেটি থাকবে না, যে আসলে ফেক? ডীপ আন্ডারকভার স্লিপার এজেন্ট? সরকারি কোনো সংস্থা দ্বারা প্রফেশনালি পরিচালিত?
ভেবে দেখেন, সরকার সব ধরনের মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। পারেনি কেবল ফেসবুককে নিয়ন্ত্রণে নিতে। এখানে মানুষ যা খুশি বলছে, লিখছে। এটাকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের পক্ষে কখনোই সম্ভব না। কিন্তু এখানে এমন কিছু সেলিব্রেটি আছে, বা এখানে পপুলিস্ট স্টাইলে লেখালেখি করলে এমন সেলিব্রেটি হওয়া সম্ভব, যার জনপ্রিয়তা হবে অকল্পনীয়, যার কথা এমন মানুষরা বিশ্বাস করবে, যারা এমনিতে সরকারবিরোধী।
তো, আপনারা যারা এমনিতে বিশ্বাস করেন দেশে যা কিছু ঘটছে, তার সবই র-এর সাজানো নাটক, সিআইএ-মোসাদ এবং র-এর সম্মিলিত ষড়যন্ত্র, তারা কি এই সিম্পল জিনিসটা বোঝেন না যে, ওরকম নাটক মঞ্চস্থ করার চেয়ে বরং এরকম একজন সেলিব্রেটি তৈরি করে ভেড়ার পাল জনগণের মাইন্ড কন্ট্রোল করা অনেক অনেক বেশি সহজ এবং কার্যকর?
এসপিওনাজ সংক্রান্ত আমার সবগুলো লেখার তালিকা একসাথে দেখতে চাইলে ক্লিক করুন এখানে।
আপনি নিজেই চিন্তা করেন, আপনার হাতে যদি দেশের ক্ষমতা থাকত, যেখানে ফেসবুকের জনমত বাদে বাকি সবকিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে, তাহলে সেই জনমতকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আপনি কি এরকম একজন ফেক সেলিব্রেটি প্রোফাইল নির্মাণ করার প্রজেক্ট তৈরি করতেন না?
এখন এরকম একজন স্লিপার এজেন্ট ফেসবুক সেলিব্রেটির কাজ কী হবে? এমনিতে সে সারাক্ষণই মোটামুটি সরকারবিরোধী কথাবার্তা বলবে। কিন্তু তার চেয়েও বেশি যেই কাজটা সে করবে, সেটা হচ্ছে পপুলিস্ট, জেনোফোবিক এবং কন্সপিরেসি থিওরিমূলক কথাবার্তা প্রচার করা, যেসব কথায় খুব সহজে কাল্ট ফ্যানবেজ জুটে যায়, এবং যেসব কথায় সরকারের কোনো ক্ষতি হয় না, বরং ক্ষেত্রবিশেষে সুদূরপ্রসারী লাভের ক্ষেত্র তৈরি হয়।
নাহ, আমি কারো নাম বলছি না। আমার হাতে কোনো ডাটা নাই। এবং অনুমানের ভিত্তিতে কারো বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করাও যায় না। এবং ডেফিনেটলি এই মুহূর্তে যাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তাকে ইঙ্গিত করছি না। জাস্ট প্রসঙ্গক্রমে ব্যাপারটা নিয়ে লিখলাম।
এটা কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না। এটা খুবই লজিক্যাল একটা ডিডাকশান। এবং এই লজিক্যাল ডিডাকশান অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সন্দেহ করা যায় না সত্য, কিন্তু এরকম বৈশিষ্ট্যের পাঁচ-সাতজন সেলিব্রেটির লিস্ট তৈরি করা হলে তাদের মধ্যে একজন যে এরকম ডীপ আন্ডারকভার স্লিপার এজেন্ট হবে, সেই সম্ভাবনা খুবই জোরালো।
কাজেই কোনো সেলিব্রেটিকে, বিশেষ করে তার আইডিটাই যদি ফেক হয়, তার চেহারাই যদি মানুষ না চেনে, তাহলে তাকে পীর মানার আগে এই সম্ভাবনাটা মাথায় রাখা ভালো।