লিবিয়া প্রবাসী অভিবাসীদের উপর বিমান হামলা
লিবিয়ার রাজনীতি

লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবস্থা: বণিক বার্তায় প্রকাশিত

লিবিয়ার চলমান গৃহযুদ্ধের সংক্ষিপ্ত পটভূমি এবং লিবিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপর এই যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আমার এই কলামটি প্রকাশিত হয়েছে বণিক বার্তার সম্পাদকীয় বিভাগের অভিমত কলামে, গত ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে।


গত ছয় মাস ধরে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির দখলকে কেন্দ্র করে চলছে এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ, যেটাকে বিশ্লেষকদের অনেকেই লিবিয়ার তৃতীয় গৃহযুদ্ধ নামে অভিহিত করছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, জুলাই মাস পর্যন্ত এই যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়েছে, যাদের মধ্যে বেসামরিক জনগণের সংখ্যাই শতাধিক। দুঃখজনকভাবে এদের মধ্যে আছে অন্তত ৯ জন বাংলাদেশীও!

লিবিয়ার পরিস্থিতি ২০১১ সালের গাদ্দাফিবিরোধী বিদ্রোহের সময় থেকেই খারাপ। কিন্তু তারপরেও লিবিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ২০১২ এবং ২০১৩ বছর দুটি বেশ ভালোই ছিল। শ্রমিক সংকটের কারণে এ সময় বাংলাদেশী শ্রমিকদের ব্যাপক চাহিদা ছিল। তাদের আয় অতীতের যেকোনো সময়কে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে নতুন করে লিবিয়ার পূর্ব এবং পশ্চিমের দুই সরকারের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যখন অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে, তখন তার প্রভাব এসে পড়তে শুরু করে লিবিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপরেও।

২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত লিবিয়ার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এ সময় লিবিয়ার একাধিক শহরে ভিন্ন ভিন্ন বাহিনী পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। তেলের উৎপাদন প্রায় এক তৃতীয়াংশে নেমে আসায় এবং একইসাথে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় এ সময় লিবিয়ান দিনারের মানেরও চূড়ান্ত অবনতি ঘটে। ২০১৪ সালের শুরুতেও যেখানে ১ ডলারে প্রায় ১.৪ দিনার পাওয়া যেত, সেখানে ২০১৬ সালে ১ ডলারের মান ৮ থেকে ৯ দিনারে গিয়ে ঠেকে। এসময়ই বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালিতে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করে। অনেকে সফল হয়, অনেকে করুণ মৃত্যুবরণ করে।

২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকে লিবিয়ার পরিস্থিতি আবার ভালো হতে শুরু করে। চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে পরাজিত করে লিবিয়ার পূর্ব এবং পশ্চিমের দুই সরকার দেশটির দুই অংশে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়, জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় গঠিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জিএনএ (গভর্নমেন্ট অফ ন্যাশনাল অ্যাকর্ড) সরকার ধীরে ধীরে ত্রিপোলির আশেপাশের শহরগুলোতেও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়, তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, ফলে দিনারের মানও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০১৮ সালে ১ ডলার সমান প্রায় ৪.৩ দিনারে এসে দাঁড়ায়।

এই বছরের শুরুটা লিবিয়ার জন্য বেশ আশাব্যঞ্জক ছিল। তেলের উৎপাদন এবং দিনারের মানের আরো বৃদ্ধির আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। দুই সরকারের মধ্যে এক ধরনের সমঝোতার ব্যাপারেও আলোচনা চলছিল। অনানুষ্ঠানিকভাবে শোনা যাচ্ছিল, পূর্বাঞ্চলীয় সরকারের সেনাবাহিনীপ্রধান মার্শাল খালিফা হাফতার হয়তো নতুন প্রস্তাবিত ঐকমত্যের সরকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং লিবিয়া পুনরায় একীভূত হবে। কিন্তু হঠাৎ করেই আলোচনা ভেস্তে যায় এবং এপ্রিল মাসের ৪ তারিখে খালিফা হাফতার জিএনএ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সমগ্র লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যে ত্রিপোলি অভিমুখে অভিযান শুরু করেন।

লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ এবং লিবিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে বণিকবার্তার সম্পাদকীয় পাতা
১৫ই নভেম্বরের বণিক বার্তার সম্পাদকীয় পাতা

লিবিয়ার এই মুহূর্তের যুদ্ধটি মূলত একটি আন্তর্জাতিক প্রক্সিযুদ্ধ। একদিকে খালিফা হাফতারের পক্ষে আছে প্রধানত আরব আমিরাত, কিন্তু সেই সাথে তাকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সাহায্য করছে ফ্রান্স, মিসর, সৌদি আরব, সুদান এবং রাশিয়ান মার্সেনারি বাহিনী। অন্যদিকে ত্রিপোলির হাফতারবিরোধী সরকার এবং তার মিত্রদেরকে সাহায্য করছে প্রধানত তুরস্ক, এবং সেই সাথে আংশিকভাবে কাতার। আর এই যুদ্ধে প্রাণ দিচ্ছে দুই পক্ষের লিবিয়ান সৈন্যরা, যুদ্ধের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই এরকম লিবিয়ানরা এবং সেই সাথে সংখ্যায় কম হলেও বাংলাদেশীসহ কিছু প্রবাসীরাও।

গত ছয়মাসের যুদ্ধে যে ৯ জন বাংলাদেশী নিহত নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে ৬ জনই নিহত হয়েছে জুলাই মাসের ৩ তারিখে ত্রিপোলির একটি অভিবাসী আটককেন্দ্রে চালানো বিমান হামলায়। এদের অধিকাংশই বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় এসেছিল মাত্র কয়েকমাস আগে, ইতালিতে যাওয়ার লক্ষ্যে। কিন্তু ধরা পড়ার পর তাদের স্থান হয়েছিল এই আটককেন্দ্রটিতে। আটককেন্দ্রটির ঠিক পাশেই ছিল স্থানীয় মিলিশিয়াদের একটি অস্ত্রাগার। পরপর দুটি বিমান হামলা হয়। একটি অস্ত্রাগারে, এবং অন্যটি অভিবাসীদের হ্যাঙ্গারে। নিহত হয় অন্তত ৫৩ জন, আহত আরো ১৩০ জন। বাংলাদেশী ৪ জনের লাশ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। বাকি দুইজন নিখোঁজ রয়ে যায়। ধারণা করা হয়, তারাও নিহত হয়েছে, কিন্তু তাদের লাশ এমনভাবে বিকৃত হয়ে গেছে যে, তা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনাটি আমাদের সামনে পুরাতন একটি সমস্যাকে নতুন করে তুলে ধরে। ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশীদের অবৈধভাবে লিবিয়ায় আগমন সমস্যা। বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরেই লিবিয়াতে পাঠানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। কিন্তু অবৈধভাবে লিবিয়ায় প্রবেশের উপর তা বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারেনি। বেনগাজির বেনিনা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে কর্মরত এক বাংলাদেশীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধের মধ্য দিয়েও প্রতিদিনই ২৫ থেকে ৩০ জন বাংলাদেশী অবৈধভাবে ঐ এয়ারপোর্ট দিয়ে লিবিয়াতে প্রবেশ করছে। এদের অধিকাংশই লিবিয়াতে আসছে কেবলমাত্র ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।

এদের প্রায় সবাই লিবিয়াতে আসছে দুবাই হয়ে। বাংলাদেশ থেকে যেহেতু লিবিয়াগামী যাত্রীদেরকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় না, তাই দালালরা এদেরকে সরাসরি লিবিয়াতে না এনে প্রথমে টুরিস্ট ভিসায় দুবাই নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে নতুন করে এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্টে লিবিয়াতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। যারা শুধুমাত্র লিবিয়ায় আসতে চায়, তাদের খরচ হয় সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা। আর যারা ইতালি পর্যন্ত যেতে চায়, তাদের খরচ হয় প্রায় ১০ লাখ টাকা।

অবৈধভাবে দুবাই হয়ে খুব সহজে লিবিয়াতে আসা গেলেও ঝামেলায় পড়ে বৈধ প্রবাসীরা। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে লিবিয়ায় বসবাস করা বাংলাদেশীরাও গত তিন-চার বছর ধরে দেশে যেতে পারছে না এই আশঙ্কায় যে, তারা হয়তো আর ফিরে আসতে পারবে না। এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সকল কাগজপত্র, পাসপোর্ট, ভিসা, কোম্পানির সার্টিফিকেট, এমনকি বাংলাদেশ দূতাবাসের সুপারিশপত্র থাকা সত্ত্বেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র না পাওয়ার কারণে প্রবাসীরা ছুটিতে গিয়ে লিবিয়ায় ফিরে আসতে পারেনি।

ছুটিতে দেশে যাওয়া বাংলাদেশীদের অধিকাংশেরই লিবিয়াতে লেনদেন বাকি রয়ে যায়, কোম্পানিতে বেতন বকেয়া রয়ে যায়। ফিরে আসতে না পারলে অনেকক্ষেত্রেই এই বকেয়া বেতন উদ্ধার করে সম্ভব হয় না। ফলে বৈধপথে ফিরতে না পেরে অনেকেই পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে অবৈধপথে লিবিয়ায় প্রবেশ করে, যার ফলে এরা নিজেরাও বিপদে পড়ে এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করে। অন্যদিকে অনেকে একেবারেই ফিরতে পারে না। ফলে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয় তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে।

লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ এবং লিবিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে বণিক বার্তায় কলাম
বণিক বার্তায় প্রকাশিত আমার লেখার স্ক্রিনশট

সরকারের হয়তো আশঙ্কা, এই লোকগুলো লিবিয়ায় ফিরে এসে অবৈধপথে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু এই আশঙ্কা একেবারেই অমূলক। যারা লিবিয়ায় অন্তত পাঁচ-ছয় বছর ধরে স্থায়ী, যারা মোটামুটি ভালো অর্থ উপার্জন করে এবং যারা কয়েক লাখ টাকা খরচ করে দেশে ছুটিতে গিয়ে আবার ফিরে আসার সামর্থ্য রাখে, তারা সাধারণত ইতালিতে যায় না। তাদের ইতালিতে যাওয়ার প্রয়োজনই হয় না।

তাছাড়া দীর্ঘদিন লিবিয়ায় থাকার কারণে তারা বাস্তবতা সম্পর্কেও ধারণা রাখে। তারা জানে, ২০১৫-২০১৬ সালে ইতালিতে যাওয়া বেশ সহজ থাকলেও বর্তমানে ইতালির লোকরঞ্জনবাদী, অভিবাসনবিরোধী সরকারের সাথে লিবিয়ান মিলিশিয়াদের চুক্তির কারণে ইতালিতে যাওয়া খুবই কঠিন, বলতে গেলে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে লিবিয়া থেকে ছাড়া ট্রলারগুলোর অধিকাংশই মাঝ সমুদ্রে ডুবতে বসলেও যাত্রীদেরকে উদ্ধার করে ইতালিতে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ইতালিয়ানরা লিবিয়ান কোস্টগার্ডকে খবর দেয়। ফলে যাত্রীদের স্থান হয় লিবিয়ান মিলিশিয়াদের দ্বারা পরিচালিত কুখ্যাত ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে।

এই মুহূর্তে লিবিয়াতে আনুমানিক ২৫ হাজারের মতো বাংলাদেশী আছে। ২০১১ সালের আগে থেকেই বৈধ বাংলাদেশীদের পাশাপাশি এদের মধ্যে এমন অনেকেই আছে, যারা গত পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে অবৈধভাবে লিবিয়াতে প্রবেশ করলেও বর্তমানে কোনো না কোনো কোম্পানিতে বৈধভাবেই কর্মরত আছে। অল্পকিছু ব্যতিক্রম বাদে এদের অধিকাংশই মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছে। যারা মোটামুটি নতুন একেবারেই কোনো ধরনের কাজ-কর্ম জানে না, তারাও মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা রোজগার করতে পারছে। আর যারা একটু পুরানো, কোনো পেশায় নিয়োজিত, তাদের আয় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ, এমনকি অনেকের এর চেয়েও বেশি। ফলে এরা কেউই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করে না।

অন্যদিকে যারা সম্পূর্ণ নতুন করে অবৈধভাবে দুবাই হয়ে লিবিয়াতে প্রবেশ করছে, তারা লিবিয়াতে এসেই বিভিন্ন ধরনের বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে। কাগজপত্র না থাকায় এবং পরিস্থিতির সাথে পরিচিত না হওয়ায় তারা সহজেই মিলিশিয়াদের হাতে অপহৃত হচ্ছে, দেশে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়ে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আবারও অভিবাসী আটককেন্দ্রে আটকা পড়ছে। আটককেন্দ্রগুলো মিলিশিয়াদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় সেখানে তাদেরকে থাকতে হচ্ছে প্রতিপক্ষের বিমান হামলার ঝুঁকির মধ্যে।

লিবিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের আরেকটি বড় ঝামেলা পোহাতে হয় দূতাবাস সংক্রান্ত কাজের ক্ষেত্রে। যেহেতু লিবিয়ার দুই অংশে দুই সরকার, তাই বৈধ কাগজপত্র থাকলেও দেশটির এক অংশ থেকে অন্য অংশে আসা যাওয়ার সময় হয়রানির শিকার হতে হয়। পাকিস্তান, ফিলিপিন বা অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ সরকারও যদি লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে কন্সুলার সেবা প্রদান করার ব্যবস্থা করত, তাহলে প্রবাসীদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হতো।

লিবিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের কল্যাণের জন্য সরকারের এই দিকগুলোতে দৃষ্টি দেওয়া খুবই জরুরী। সরকারের উচিত বৈধভাবে লিবিয়ায় কর্মরত প্রবাসীদের জন্য দেশে ছুটিতে গিয়ে পুনরায় ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে সহজ করে দেওয়া এবং একইসাথে অবৈধভাবে দুবাই কিংবা অন্য কোনো রুট হয়ে লিবিয়ায় প্রবেশ বন্ধ করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তাহলে একইসাথে রেমিট্যান্সের প্রবাহ অব্যাহত থাকবে, দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হবে না এবং অবৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করে প্রাণহানিও হ্রাস পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.