স্টুপিডিটির পাঁচটি বেসিক সূত্র
বই রিভিউ

দ্য বেসিক ল’জ অফ হিউম্যান স্টুপিডিটি!

ইন্টারেস্টিং একটা বইয়ের সন্ধান পেলাম: দ্য বেসিক ল’জ অফ হিউম্যান স্টুপিডিটি (The Basic Laws of Human Stupidity)!

বইটা অবশ্য পড়িনি, জাস্ট একটা রিভিউ পড়লাম আর দুইটা ইউটিউব ভিডিও দেখলাম। লেখক পাঁচটি পয়েন্টে মানুষের স্টুপিডিটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরমধ্যে দ্বিতীয় পয়েন্টটা আমার সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে। এটার মুল বক্তব্য হচ্ছে, বেকুব মানুষের অনুপাত সমাজের সব শ্রেণির মধ্যে মোটামুটি সমান।

অর্থাৎ, ধনীরা বুদ্ধিমান, গরীবরা বেকুব, বা সায়েন্স পড়ুয়ারা বুদ্ধিমান, আর্টস পড়ুয়ারা বেকুব, বা ক্ষমতাবানরা বুদ্ধিমান, আর চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা বেকুব – এরকম কোনো কথা নাই। লেখকের মতে যদি রিকশাওয়ালাদের মধ্যে ৪০% মানুষ বেকুব থাকে, তাহলে প্রেসিডেন্টদের মধ্যেও মোটামুটি ৪০% এর কাছাকাছি বেকুব থাকবে!

আরো পড়ুন: আমার সবগুলো বইয়ের রিভিউ এবং বই বিষয়ক আলোচনা

অনেকেই সাফল্য বা অন্যান্য ক্যাটাগরিকে বুদ্ধিমত্তার সাথে গুলিয়ে ফেলেন। লেখকের মতে এটা সম্পূর্ণ ভুল। কেউ একজন ব্যাবসায়িকভাবে সফল হয়েছেন, বা রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে যেতে পেরেছেন মানেই তিনি বুদ্ধিমান, এরকম কোনো নিয়ম নেই। বেকুবরাও ওসব জায়গায় যেতে পারেন।

আমার মতে, দিস মেক্‌স পারফেক্ট সেন্স। দুনিয়ার সব দেশের সরকারপ্রধান আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মতো বিচক্ষণ হয় না, ট্রাম্পের মতো বেকুবরাও হঠাৎ হঠাৎ প্রেসিডেন্ট হয়ে যেতে পারে। এই স্টুপিডির রুল ছাড়া আপনি সেটাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

এখন ট্রাম্পকে বেকুব বললে অনেকেই রাগ করে। তাদের ধারণা জাস্ট ট্রাম্প সফল ব্যবসায়ী এবং প্রেসিডেন্ট বলেই বাই ডিফল্ট তাকে বুদ্ধিমান বলে মেনে নিতে হবে। কিন্তু দুইমাস আগেও ব্রিটিশ অ্যাম্বাস্যাডর পেছনে ট্রাম্পকে অযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে, আবার ট্রাম্পও তাকে পাল্টা স্টুপিড বলে গালি দিয়েছে। এখন এই দুইজনের যেকোনো একজনকে তো আপনাকে বেকুব বলে মানতেই হবে! প্রেসিডেন্ট না হোক, ব্রিটেনের মতো একটা দেশের আমেরিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিংয়ের অ্যাম্বাস্যাডর যদি স্টুপিড হয়, সেটাও তো সিরিয়াস ব্যাপার!

স্পাই স্টোরিজ: এসপিওনাজ জগতের অবিশ্বাস্য কিছু সত্য কাহিনী

সত্যিকারের গুপ্তচরদের কাহিনী নিয়ে লেখা আমার নন-ফিকশন থ্রিলার বই। প্রকাশিত হয়েছে স্বরে অ প্রকাশনী থেকে। ঘরে বসে অর্ডার করতে পারেন রকমারির এই লিঙ্ক থেকে। মুদ্রিত মূল্য ২৭০ টাকা মাত্র। আর পড়ার পর রেটিং এবং রিভিউ দিতে পারবেন গুডরিডসের এই লিঙ্কে

একটা লেখায় পড়েছিলাম, অক্সফোর্ড গ্র্যাজুয়েটরা কেন সফল বিজনেসম্যান বা সফল পলিটিশিয়ান হয়। সেখানে বলেছে, এমন না যে অক্সফোর্ডের সবাই ব্রিলিয়ান্ট। ডোনেশনের জোরে অনেক বড়লোকের বেকুব সন্তান, কিংবা পলিটিশিয়ানদের কুসন্তানরাও অক্সফোর্ডে চান্স পায়। কিন্তু দিনশেষে দেখা যায় তারাও সফল হিসেবে আবির্ভূত হয়। বিশাল বিজনেস টাইকুন বা সফল পলিটিশিয়ান হয়ে যায়। কারণটা কী? তারা কী এই দুই-চার বছরেই জিনিয়াস হয়ে যায়?

না, তারা বেকুবই থাকে। কিন্তু তাদের বাবার টাকা, চাচার পাওয়ার, মামার দুনিয়াজোড়া কানেকশন, আর সেগুলোর টানে অক্সফোর্ডে তাদের পাশে জুটে যাওয়া কিছু জিনিয়াস বন্ধুদের জোরেই তারা মূলত বেকুব হয়েও শেষপর্যন্ত সফল হয়ে যায়। সফল হতে নিজের বুদ্ধিমত্তাই একমাত্র প্রিকুইজিট না।

তাছাড়া হুমায়ূন আহমেদেরও একটা ডায়লগ ছিল, বেকুব মানুষের উপর আল্লাহ্‌’র রহমত থাকে 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published.